Tuesday, November 15, 2011

ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি | যখন আপনাকে কেউ গালাগালি করে তখন আপনি কি করবেন?


হযরত আবু হুরায়রা (রা: ) হইতে বর্ণিত আছে,
  নবী করিম (সা) একদা বসিয়াছিলেন, তাহার উপস্থিতিতে এক ব্যক্তি হযরত আবু বকর (রা) কে গালি দিল। তিনি (ঐ ব্যক্তির বার বার গালি দেওয়া এবং হযরত আবু বকর (রা) এর সবর ও খামুশ থাকার উপর) খুশী হইতে থাকেন এবং মুচকি হাসিতে থাকেন। অত:পর যখন সেই ব্যক্তি অনেক বেশী গালিগালাজ করিল তখন হযরত আবু বকর (রা) তাহার কিছু কথার জবাব দিলেন। ইহার উপর রাসুল (সা) অসন্তুষ্ট হইয়া সেখান হইতে চলিয়া গেলেন। হযরত আবু বকর (রা) ও তাহার পিছনে পিছনে তাহার নিকট পৌঁছিলেন এবং আরজ করিলেন, ইয়া রাসুলুল্লাল্লাহ (সা)! (যতক্ষণ) ঐ ব্যক্তি আমাকে গালি দিতেছিল আপনি সেখানে অবস্থান করিতেছিলেন, তারপর যখন আমি তাহার কিছু কথার জওয়াব দিলাম তখন আপনি নারাজ হইয়া উঠিয়া গেলেন। রাসুল (সা) এরশাদ করিলেন, (যতক্ষণ তুমি চুপ ছিলে এবং সবর করিতেছিলে তোমার সহিত একজন ফেরেশতা ছিল, যে তোমার পক্ষ হইতে জওয়াব দিতেছিল। তারপর যখন তুমি তাহার কিছু কথার জওয়াব দিলে (তখন সেই ফেরেশতা চলিয়া গেল আর) শয়তান মাঝখানে আসিয়া গেল। আর আমি শয়তানের সহিত বসি না। (এই জন্য আমি উঠিয়া রওয়ানা হইয়া গিয়াছি) ইহার পর তিনি এরশাদ করিলেন,  হে আবু বকর! তিনটি বিষয় আছে যাহা সম্পূর্ণ হক ও সত্য যে বান্দার উপর কোন যুলুম অথবা সীমালন্ঘন করা হয় আর সে শুধু আল্লাহ তায়ালার জন্য উহা মাফ করিয়া দেয় (ও প্রতিশোধ না লয়) তখন উহার বিনিময়ে আল্লাহ তায়ালা তাহাকে সাহায্য করিয়া শক্তিশালী করিয়া দেন। যে ব্যক্তি আত্মীয়তা বজায় রাখার জন্য দানের রাস্তা খোলে আল্লাহ তায়ালা উহার বিনিময়ে অনেক বেশী দান করেন। আর যে ব্যক্তি সম্পদ বৃদ্ধি বরার জন্য সওয়ালের দরজা খোলে আল্লাহ তায়ালা তাহার সম্পদ আও কমাইয়া দেন। 
(মুসনাদে আহমদ)
Read More ... »

Saturday, September 10, 2011

মুসলমানের আদব : নিজে যাহা খাইবে, তাহাই দাসকে খাওয়াইবে


জাবির ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (রা.) বলেন, নবী করীম (সা.) ক্রীতদাসদের সহিত উত্তম আচরণ করার জন্য তাগিদ করিতেন এবং বলিতেন, তোমরা যাহা খাও, তাহাদগিকেও তাহাই খাওয়াইবে এবং তোমরা যাহা পরিধান কর, তাহাদিগকেও তাহাই পরাইবে এবং আল্লাহ তা’আলার সৃষ্ট জীবনসমূহকে কষ্ট দিবে না।

কোন ব্যক্তি আহারের সময় তার খাদেমকেও কি তার সাথে বসাবে ?
 
হযরত আবু হুরায়রা (রা.) হইতে বর্ণিত আছে  যে, রাসুল (সা.) ফরমাইয়াছেন, যখন তোমাদের মধ্যকার কাহাকেও খাদেম তাহার আহার্য নিয়া তাহার কাছে আসে, তখন তাহাকেও সাথে বসাইয়া নেওয়া উচিত। সে যদি উহাতে সম্মত না হয়, তবে তাহাকে উহা হইতে কিছু দিয়া দেওয়া উচিত।

আবূ মাহ্‌যূরা (র.) বলেন, আমি হযরত উমর (রা.) র দরবারে উপবিষ্ট ছিলাম। এমন সময় সাফ্‌ওয়ান ইব্‌ন উমাইয়া (রা.) একটি বিরাট পাত্র সহকারে তথায় আসিয়া উপসি'ত হইলেন। পাত্রটি একটি পশমী চোগায় করিয়া কয়েক ব্যক্তি বহন করিয়া আনিয়াছিল। তাহারা ইহা আনিয়া হযরত উমর (রা.)-র সম্মুখে রাখিল। তখন হযরত উমর (রা.) দুস'-দরিদ্র লোকজনকে এবং তাহার নিকটস' লোকজনের দাসদিগকে ডাকিলেন। তাহারা তাঁহার সহিত একত্রে বসিয়া আহার করিল। তখন তিনি বলিলেন, আল্লাহ এমন একটি সমপ্রদায়কে ধ্বংস করিয়া দিয়াছেন অথবা তিনি বলিয়াছেন, আল্লাহ এমন একটি সমপ্রদায়কে অপদস' করিয়াছেন যাহারা তাহাদের দাসদের সহিত খাইতে অনিচ্ছুক, তাহাদের প্রতি বিমুখ ছিল। তখন সাফ্‌ওয়ান বলিলেন, কসম আল্লাহর! আমরা তাহাদের প্রতি বিমুখ নহি বরং তাহাদিগকে আমাদের মুকাবিলায় অগ্রাধিকার দিয়া থাকি। কসম আল্লাহর! আমরা এমন কোন উত্তম খাবার পাই না যাহা নিজেরা খাইব এবং তাহাদিগকে খাওয়াইব।
[আল আদাবুল মুফরাদ, অনুচ্ছেদ ১০১]

Read More ... »

Thursday, September 1, 2011

আসলে কি নারী উন্নয়ণ নীতিমালায় ইসলাম বিরোধী কিছু আছে ?


আমরা মুসলমান। ইসলাম আমাদের ধর্ম। আল্লাহ আমাদের রব। কুরআন আল্লাহ তা’আলার কালাম, আসমানী গ্রন্থ, আমাদের সংবিধান। মুসলমান মাত্রই বিশ্বাস করে যে, আল্লাহর কালাম “কুরআন” সব সন্দেহ-সংশয় ও ভুল ত্রুটির উর্দ্ধে। কিয়ামত পর্যন্ত এতে কোন সংশোধন, সংস্কার, সংযোজন-বিয়োজন করা যাবে না।
নারী-পুরুষ মহান আল্লাহর রাব্বুল আলামীনের সৃষ্টি। উভয়ই আল্লাহ তাআলার বান্দা-বান্দী। আর সৃষ্টির ভাল-মন্দ স্রষ্টা ভাল জানেন। পবিত্র কুরআন পাকে ইরশাদ হচ্ছে, ‘যিনি সৃষ্টি করেছেন তিনি কি জানেন না ? অথচ তিনিই সূক্ষ্মদর্শী ও সবকিছুর ব্যাপারে সম্যক অবগত।’ (সূরা মূল্‌ক : ১৪)
আল্লাহ তাআলা তাঁর এ জানার আলোকেই সৃষ্টি করেছেন নারী-পুরুষ। এবং প্রত্যেককে যার যার কাজ ও দায়-দায়িত্ব হিসেবে দিয়েছেন মেধা, মনন, মানসিকতা ও শারীরিক গঠন। নারী মা হবেন। এজন্য মাতৃত্বের যাবতীয় গুণাবলী দিয়ে আল্লাহ তাআলা তাদেরকে সৃষ্টি করেছেন। যেসব গুণাবলী পুরুষের মধ্যে নেই। আর পুরুষ বাবা হবেন। এজন্য সৃষ্টিগতভাবে আল্লাহ তা’আলা পুরুষের মধ্যে পিতৃত্বের যাবতীয় গুণাবলী দিয়েছেন। যা নারীদের মধ্যে সহজাতভাবে নেই। সুতরাং নারী-পুরুষের মধ্যে জন্মগতভাবেই পার্থক্য আছে। আছে ভিন্নতা। যেমন নারীর কাজ হলো- গর্ভে সন্তান ধারণ, সন্তান প্রজনন, স্থন্য দান ও সন্তান লালন-পালন। আর পুরুষের কাজ হলো- মা ও সন্তানের যাবতীয় ভরণপোষণের খরচ বহন ও এর ব্যবস্থাকরণ। সুতরাং স্বাভাবতই কর্মের ভিন্নতার কারণে নারী-পুরুষের কর্মক্ষেত্রেরও ভিন্নতা এসে যায়। আর তা হলো- নারীর কর্মক্ষেত্র হল ঘর; পুরুষের কর্মক্ষেত্র বাহির। এজন্য কুরআন বলে, “নারীরা! তোমরা ঘরে অবস্থান কর”। অন্যত্র পুরুষদের বলা হয়েছে, “তোমাদের নামায আদায় হয়ে গেলে বের হয়ে যাও ও আল্লাহর দেওয়া রিযিক তালাশ কর”। এ হলো নারী-পুরুষের সহজাত ভিন্নতা ও পার্থক্য।

সহজাত এসব ভিন্নতার কারণে নারী-পুরুষের বিধি-বিধান ভিন্ন, নিয়মনীতি ভিন্ন। সমপ্রতি বাংলাদেশে বহুল আলোচিত সমালোচিত নারী উন্নয়ন নীতিমালা যা গত ৭ই মার্চ মন্ত্রীসভায় অনুমোদিত হওয়ার পর উলামায়ে কেরাম কুরআন, সুন্নাহ ও ইসলামী শরীয়ার সাথে সাংঘর্ষিক বলে এ নীতিমালা বাতিল করার দাবী তুলেছেন। সে নালী নীতিমালা জাতিসংঘের প্রণীত সিডও (নারী-পুরুষের বৈষম্য দূরীকরণ)’রই প্রতিধ্বণি মাত্র। এ নীতিমালায় বারবার এ কথা বিবৃত হয়েছে যে, সিডও-র প্রচার ও বাস্তবায়ন করতে হবে। এমনকি প্রয়োজনে সিডও বাস্তবায়নে দেশীয় আইন সংশোধন, পরিবর্তন বা নতুন আইন প্রণয়ন করতে হবে। সিডও’র মূল বক্তব্য হল দু’টি :
১। নারী পুরুষের সকল বৈষম্য দূর করা।
২। সর্বক্ষেত্রে নারী-পুরুষের সমতা প্রতিষ্ঠা করা।
এ দু’টো মূল কথাই ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক। বরং মানবতা ও সৃষ্টিশৈলী বিরোধী। নারী-পুরুষের সকল বৈষম্য দূর করে সকল ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের সমানাধিকার প্রতিষ্ঠা করা কি আদৌ সম্ভব? এটা কি আদৌ কোনো যুক্তিসঙ্গত কথা?  কোন সুস্থ বিবেক সম্পন্ন মানুষ কি এমন দারী তুলতে পারে? এরপরও এদেশের এম.পি. মন্ত্রী এমনকি প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত বলেছেন যে, নারী নীতিমালায় ইসলাম বিরোধী কিছুই নেই। আমরা বলব, যেহেতু এ নীতিমালা সিডও’রই প্রতিচ্ছবি বাস্তবায়নের অঙ্গীকারের একটি কৌশল মাত্র আর সিডও’র লক্ষ্য-উদ্দেশ্য ও মূল চিন্তা-চেতনা ইসলামী চিন্তা-চেতনার সম্পূর্ণ পরিপন্থী, সেহেতু এ নারী উন্নয়ন নীতিমালা পুরোটাই ইসলাম বিরোধী। অবশ্য নীতিগত দিকটা পাশ কেটে গেলেও ইসলামী বিশেষজ্ঞদের গবেষণায় এ নীতিমালায় কমপক্ষে ১৯টি ধারা/উপধারা কুরআন-সুন্নাহ বিরোধী। এর মধ্যে উল্ল্যেখযোগ্য কয়েকটি ধারা এখানে তুলে ধরছি।
  •    ইসলাম পৈতৃক উত্তরাধিকারে নারীকে পুরুষের অর্ধেক দিয়েছে। আর এ নীতিমালায় নারীকে পুরুষের সমান দেয়ার কথা বলা হয়েছে।
  •    নারী নীতিমালার ১৮.১ এ বলা হয়েছে, বাল্য বিবাহের বিরুদ্ধে আইনের কঠোরতা প্রয়োগ করা। অথচ ইসলামে বাল্যবিবাহের ব্যাপারে নিরুৎসাহিত করলেও অভিভাবক কর্তৃক সম্পাদিত হলে কঠিন শর্ত সাপেক্ষে এর বৈধতা অনুমোদন করে। এ নীতিটি ও কুরআন-সুন্নাহ এমনকি রাসূল (স.) এর আমলের সাথেও সরাসরি সাংঘর্ষিক।
  •   নীতিমালার ৭.২ ধারাতে আছে, “মা কর্তৃক সন্তানকে নাগরিকত্ব প্রদানের বিধান সন্নিবেশিত করা হলো”। অথচ কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, “তোমরা তাদেরকে তাদের  পিতৃ পরিচয়ে ডাক। এটাই আল্লাহ তাআলার কাছে ন্যয় সঙ্গত”। নীতিমালার এ ধারাটিও সপ্‌মূর্ণ কুরআন-সুন্নাহ’র সাথে সাংঘর্ষিক। মুসলমানদের এদেশে বৈধ বিবাহের মাধ্যমে সন-ান হয়। এদেশের ৯৫% মানুষের পিতৃ পরিচয় আছে। তারা হালাল ও বৈধ সন্তান। সুতরাং মাতৃ পরিচয়ে পরিচিত হওয়ার কোন প্রয়োজন নেই। অবশ্য সিডও’র ভূক্ত পশ্চিমা দেশগুলোতে এ নীতির প্রয়োজন থাকতে পারে। সেখানকার অধিকাংশ মানুষই পিতৃ পরিচয়হীন। দেশে এ নীতি চালু হলে ‘লিভ টুগেদার’ আস্কারা পেয়ে যাবে। ফলে এদেশেও জারজ সন-ানের পরিমাণ বেড়ে যাবে ও ইসলামের পারিবারিক কাঠামো ভেঙ্গে যাবে। যা আজ পশ্চিমা দেশগুলোর সামাজিক চিত্রে দেখা যাচ্ছে।
  •   সুদীর্ঘ এ নীতিমালার কোথাও নারীর ইজ্জত-সম্ভ্রম হিফাজতের আসমানী রক্ষাকবজ পর্দা বিধানের কথা উল্ল্যেখ নেই। বরং উল্টো নারীকে ঘর ছাড়া করা ও টেনে বাহিরে নিয়ে আসার কথা আছে একাধিক স্থানে। সুতরাং নারী বেপর্দা হওয়া ও বাহিরমুখী হওয়া সম্পূর্ণ কুরআন-সুন্নাহ বিরোধী। দেশে এ নীতি চালু হলে ধর্ষণ, যৌন নির্যাতন, যৌন হয়রানী, ইভটিজিং শতগুণে বেড়ে যাবে। যেমন নীতিমালার ২২.৩ এ আছে, “সাংস্কৃতিক পরিমন্ডলে নারীর বর্ধিত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।”
  •   ২২.৪ ধারায় নাটক ও চলচ্ছিত্র নির্মাণে (যেখানে বেগানা পুরুষের সাথে মেলামেশা করতে হয় এবং যা ইসলামে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ) নারীকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে সরকারি অনুদানের ব্যবস্থা করা। এছাড়াও এ নীতিমালা এ নীতিমালায় যৌতুক ও পতিতাবৃত্তির প্রতি উস্কে দেওয়া হয়েছে।

* শাকদিয়ে মাছ ঢাকার অপচেষ্টা *
  • নীতিমালার ২৩.৫ ধারায় আছে, “সম্পদ, কর্মসংস্থান বাজার ও ব্যবসায় নারীকে সমান সুযোগ ও অংশীদারিত্ব দেওয়া।”
  • ২৫.২ এ আছে “উপার্জন, উত্তরাধিকার এবং বাজার ব্যবস্থার মাধ্যমে অর্জিত সম্পদের ক্ষেত্রে নারীকে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রদান করা। বোধ হয় এ দু’টো ধারা থেকেই নীতিমালা অনুমোদিত হওয়ার পরদিন বেতার, টেলিভিশনসহ পত্র-পত্রিকায় বিশেষভাবে দেশের প্রধান জাতীয় পত্রিকা তথা- প্রথম আলো, যুগান্তর ও কালের কান্ঠে খবর প্রচার করা হয় এভাবে : “ভূমিসহ সম্পদ-সম্পত্তিতে ও উত্তরাধিকারে নারীর সমান অধিকার স্বীকৃতি দিয়ে নারী উন্নয়ন নীতিমালা ২০১১ খসড়া অনুমোদন করেছে সন্ত্রীসভা”। দেশের বিজ্ঞ আলেম-উলাম ও ইসলামী বিশেষজ্ঞগণ ঠিক তাই বুঝেছেন যা বুঝেছে বাসস সহ প্রায় সব পত্র-পত্রিকা কর্তৃপক্ষ। পত্রিকার এসব শিরোনামের উপর সরকার পক্ষের কেউ কোন প্রতিবাদ করেনি। কিন্তু যখনই আলেম-ওলামাগণের  পক্ষ থেকে বলাবলি শুরু হল যে এটা কুরআনের সাথে সাংঘর্ষিক তখনই সরকার ২৩.৫ “সম্পদ” শব্দের অস্পষ্টতার সুযোগ নিয়ে জনগণকে বোকা বানানোর অপকৌশল অবলম্বন করল আর বলল,এখানে সম্পদ বলা হয়েছে উত্তরাধিকারের কথা বলা হয়নি। এক পর্যায়ে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীও বলে ফেললেন যে, “নীতিমালায় ইসলাম বিরোধী কিছু নেই।”
অযথা কথা বাড়িয়ে গোজামিল দেয়ার ব্যর্থ চেষ্টা করবেন না। সাহস থাকলে পরিষ্কার ভাষায় উল্ল্যেখ করে দিন যে, “পৈতৃক সম্পদের ক্ষেত্রে কুরআন-সুন্নাহ মাফিক বন্টন হবে।” সব ঝগড়া মিটে যাবে। মু’মিন-মুসলমানের প্রাণের দাবী পূরণ হবে।
এছাড়া সবক্ষেত্রে নারীর সমান অধিকারের ঘোষণার মাধ্যমে মুসলিম উত্তরাধিকার আইনকে অকার্যকর করাই যে সিডও’র সনদের মূল টার্গেট তাতো অন্ধদেরও সহজেই অনুমেয়।
নারী উন্নয়ন নীতিমালা ২০১১  এর মূল ফাইলটি এখান থেকে ডাউনলোড করে নিন।

Read More ... »

Sunday, August 7, 2011

রমজান উপলক্ষ্যে হুযুর (সা.) এর ভাষণ :



হযরত সালমান ফারসী (রা.) বর্ণনা করেন, 
একদা নবী করীম (সা.) শাবানের শেষ তারিখে আমাদেরকে সম্বোধন করে বলেন, তোমাদের উপরে এমন একটি মাস আগমন করছে যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রবকতময় মাস, উক্ত মাসে একটি রাত রয়েছে (শব-ই-ক্বদর) যা হাজার মাসের চেয়ে উত্তম আল্লাহ তাআলা উক্ত মাসের রোযা ফরজ করেছেন এবং রাত্রে ক্বিয়াম করাকে (তারাবীহ) সাওয়াবের ইবষয় বানিয়েছেন যে কেউ এই মাসে একটি নফল ইবাদাত করল সে কেমন যেন অন্য মাসে একটি ফরজ আদায় করল, আর যে একটি ফরজ পালন করল সে কেমন যেন অন্য মাসে সত্তরটি ফরজ আদায় করল এটি হচ্ছে সবরের মাস আর সবরের বিনিময়ে রয়েছে জান্নাত এই মাস হচ্ছে সহমর্মিতার মাস, এই মাসে মু’মিনের রিযিক বাড়িয়ে দেয়া হয় যে কেউ অন্য কাউকে ইফতার করাবে এটা তার জন্য গোনাহ মাফ এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তির কারণ হবে রোযাদার ব্যক্তির সাওয়াবের মত পূর্ণ একটি সওয়াব সেও প্রাপ্ত হবে অথচ রোযাদারের সাওয়াব বিন্দুমাত্রও হ্রাস পাবে না

সাহাবায়ে কেরাম আরয করলেন, 
হে আল্লাহর রসুল (সা.)!  আমাদের মধ্যে তো অনেকেরই এমন সামর্থ নেই যে, অন্যকে ইফতার করাবে অর্থা পেট ভরে খাওয়াবে হুযুর (সা.) এরশাদ করলেন, এটা পেট ভরে খাওয়ার উপর নির্ভরশীয় নয় বরং এই সাওয়াব তো সেই ব্যক্তিও প্রাপ্ত হবে, যে একটি খেজুর কিংবা এক ঢোক পানি অথবা এক ঢোক দুধও পান করাবে এটি এমন একটি মাস যার প্রথম ভাগ হচ্ছে রহমত, মধ্যভাগ মাগফিরাত এবং শেষ ভাগে রয়েছে জাহান্নাম থেকে মুক্তি যে ব্যক্তি এই মাসে স্বীয় চারক-নকারের কাজের চাপ কমিয়ে দিবে আল্লাহ তাআলা তাকে মাফ করবেন এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিবেন এই মাসে চারটি কাজ বেশী বেশী করে করবে তার মধ্যে দুটি জিনিস হচ্ছে আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য, আর দুটি জিনিস এমন যা ছাড়া তোমাদের কোন গতি নেই প্রথম দুটি জিনিস যদ্বারা তোমরা স্বীয় প্রতি পালককে সন্তুষ্টি করবে, তা হচ্ছে কালিমায়ে তাইয়্যিবা এবং ইসতিগফার বেশী বেশী পড়া, আর অপর দুটি জিনিস হল,  জান্নাতের কামনা এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তি প্রার্থনা যে ব্যক্তি কোন রোযাদারকে পানি পান করাবে আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন তাকে আমার হাউজে কাওসার থেকে এমন পানি পার করাবেন যে, জান্নাতে প্রবেশ করা পর্যন্ত তার আর পিপাসা অনুভূত হবে না

(সহীহ ইবনে খুযাইমা, বাইহাকী, তারগীব তারহীব – ২০৩)



Read More ... »

Wednesday, June 29, 2011

নিজের সাথেই বিশ্বাসঘাতকতা ও স্বার্থপরতা

আম্মু, ভাইয়া আমার পেন্সিল নিয়ে গেছে। ছোট্ট শিশুর এই অভিযোগ শুনলে এখন থেকে ১৫ বছর আগের একজন মায়ের অভিব্যক্তি হতো অনেকটা এরকম: তাই? দাঁড়াও আজকে ভাইয়াকে দেখাচ্ছি মজা, আমার ছোট্ট মনিটার পেন্সিল নিয়ে যায় কত বড় সাহস!! তখন বড় ছেলেকে রিকোয়েস্ট করে পিচ্চি মেয়েটার কাছে আবার তার পেন্সিল ফেরত দেয়া। কিন্তু ঠিক এই ২০১১ সালের একটি সন্ধ্যায় যদি এমনই অভিযোগ কোন পিচ্চি মেয়ে তোলে তাহলে তাকে যা শুনতে হয় তা হচ্ছে: মামনি, আম্মু টিভি দেখছি, এখন যাও, পড়তে বসো, পড়ে শুনবো। আর যদি মেয়েটি আরেকটু ঘ্যান ঘ্যান করে তখন তুমুল ঝাড়ি, দেখছোনা বেয়াদব মেয়ে, আমি টিভি দেখছি, এখন কেন ডিস্টার্ব করছ? যাও বুয়াকে গিয়ে বল।

দুটোই একটি মায়ের চরিত্র। ২০১১ সালের মায়ের চেয়ে ১৯৯৫ সালের মায়ের সন্তানের প্রতি দরদ খুব যে বেশি ছিল তা কিন্তু নয়। বরং সন্তানের প্রতি মায়ের ভালোবাসা যুগের পর যুগ অপরিবর্তিত ভাবেই থাকবে। কেবল ধরনটা একটু চেঞ্জ হচ্ছে। এবার আসুন আমরা মায়ের সেই বক্তব্যটির একটু পর্যালোচনা করি। “ দেখছোনা বেয়াদব মেয়ে?” কেবল এই একটি  বাক্যই মা সম্পর্কে শিশুর শ্রদ্ধাবোধ উঠিয়ে নেয়ার জন্য যথেষ্ট, কেননা একটি শিশু মাকেই পৃথিবীতে তার সকল আবদার অভিযোগের একমাত্র কেন্দ্র মনে করে। কিন্তু যখন সে সেখানেও তার মনের ব্যথা বা আকুলতা প্রকাশ করতে পারছেনা তখন? দেখুন, পেন্সিল নিয়ে যাওয়া বিষয়টি আমাদের মত বড়দের কাছে একটি তুচ্ছ ঘটনা। কিন্তু চাইল্ড সাইকোলজিতে তার কাছে ওটাই অনেক বড় একটি ব্যাপার। আমার এখনো মনে পড়ে ছোট বেলায় একটি কলমের গায়ের ডিজাইন হাতের ঘর্ষণে উঠে যাবে বলে স্কচ টেপ পেঁচাতে চেয়েছিলাম। আমার এক স্যার বললেন তুমি ঠিক ভাবে পেঁচাতে পারবেনা, আমার কাছে দাও। আমি তার কাছে দিয়ে নিশ্চিন্ত হলাম, কিন্তু দেখলাম পেঁচাতে গিয়ে উনি ভ্যাজাল বাঁধিয়ে টেপটাকে আবার উঠিয়ে লাগাতে নিচ্ছিলেন, আর আমার সাথের সব ডিজাইন টেপের আঠার সাথে লেগে উঠে যাচ্ছিলো। এবং এই বেদনা আমি অনেকদিন পর্যন্ত মনে রেখেছিলাম। এখন সেসব মনে পড়লে হাসি আসে, কিন্তু গভীর ভাবে ভাবলে বুঝি ওটাই তখন আমার ক্ষুদ্র মস্তিষ্কে অনেক বড় একটি যায়গা দখল করে ছিল।

এবারে যদি সেই মায়ের “আমি টিভি দেখছি” কথাটিকে পর্যালোচনা করি তাহলে কিছু ভয়ংকর বিষয় আমাদের চোখের সামনে চলে আসবে। যারা তা সহ্য করার ক্ষমতা রাখেননা তাদেরকে এক্ষুণি চোখ বন্ধ করে সড়ে পড়ার অনুরোধ করবো। কারণ যারা এই লেখাটি পড়ছেন তারা না হলেও তাদের খুব কাছের অনেক স্বজনেরাই এভাবে টিভির প্রতি আসক্ত। আমাদের সন্তানেরা ড্রাগে আসক্ত হলে আমরা প্রচণ্ড রেগে যাই কিংবা তাকে তুচ্ছ নগণ্য হিসেবে গণ্য করি। কিন্তু আমার কাছে টিভিতে আসক্তির চেয়ে ড্রাগে আসক্ত হওয়াই বেশি কল্যাণকর মনে হয়। কারণ ড্রাগতো কেবল শরীরটাকে ধ্বংস করে যদিও মনে এর কিছুটা প্রভাব পড়ে, কিন্তু টিভি আসক্তি মন মগজ মেধা এমনকি শরীরকেও একই সাথে ধ্বংস করে দেয়। আবার দেখুন, ড্রাগ আসলে কোন খারাপ কিছু নয় বরং জীবন রক্ষাকারী একটি উপাদান। কিন্তু এর ব্যাবহারিক মাত্রা এর উপযোগিতাকে অতিক্রম করলেই তা প্রাণনাশ। ঠিক তেমনি টিভি একটি চরম উপকারী বিষয় কিন্তু এর প্রায়োগিক ও ব্যবহারিক মাত্রা যদি উপযোগিতাকে অতিক্রম করে বসে তখনই পারিপার্শ্বিক জগতের জন্য ভয়াবহ হুমকি ডেকে আনে। আমরা যদি তাকাই সেই দিকে, অর্থাৎ আমাদের আলোচনার “মা” কি এতো মহা গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান দেখছ যে তার সন্তানকে সেই অনুষ্ঠানের জন্য ঝাড়ি খেতে হচ্ছে? মহান সিরিয়াল। যার শুরু আছে কিন্তু শেষ নেই। এইসব ধারাবাহিকে মানব জীবনের জন্য মহা উপকারী পাঠ প্রদান করা হয়। যেমন এগুলোতে আপনি খুঁজে পাবেন পরকীয়া করার চমৎকার চমৎকার সব উপায়। এবং কুটনামী এবং প্যাঁচ লাগানোর যতসব আধুনিক পন্থা, সংসারে সাক্ষাত ঝামেলা পাকানোর আধুনিকতর রেসিপি। পরনিন্দা ও পরচর্চা করার খুব উন্নত প্রশিক্ষণ। আমরা ভাবছি এসব দেখে আমাদের খুব তো ক্ষতি হচ্ছেনা, বরং বিনোদন হিসেবে একাকী সময় কাটানোর মহতী উদ্যোগ। কিন্তু ক্ষতি কতটুকু হচ্ছে তা রিসেন্ট পত্র পত্রিকা খুললেও পরিষ্কার হয়ে যায়। যদিও পত্রিকার খবরে ঈমান রাখার কোন জরুরত নেই কেননা বিক্রি বাড়াতে এরা আজ একরকম তো কালই আরেকরকম সংবাদ ছাপাতে কুণ্ঠা বোধ করেনা, কিন্তু এইসব ঘটনা যে ঘটছে তা তো সত্য। খবরের কাগজে রিপোর্ট হচ্ছে মাত্র দু/একটির বাকি শত শত ঘটনা প্রতিদিন লোকলজ্জার ভয়ে আমরা চাঁপা দিয়ে বুক ভরা দীর্ঘ নিঃশ্বাস নিয়ে কাটিয়ে দেই ঘুমহীন রাতগুলো। আর প্রতিদিনই ধোঁকা দিয়ে চলছি নিজেই নিজেকে।

এখন যদি আমরা বলি যে মায়ের পরবর্তী বাক্য “ এখন কেন ডিস্টার্ব করছ?” এটা চরম অমানবিক তাহলে কি আমাকে খুব বেশি দোষ দেয়া যাবে? একটি শিশু প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে তার মায়ের কাছেই ছুটে যাবে, তার সকল আকুতি কিংবা আনন্দানুভূতি তার মাকেই বলবে- এটাই তো নিয়ম তাই না? কিন্তু যখন সে তার মায়ের কাছ থেকে তা না পায় তাহলে আমরা কি করে আশা করবো মায়ের শিশুকালে (বার্ধক্যে মানুষ আবার শিশু হয়ে যায়) সে পরম যত্নে টেক কেয়ার করবে? আমাদের এইসব কর্মকাণ্ডই আমাদেরকে এমন একটি পৃথিবীর দিকে নিয়ে যাচ্ছে যেখানে মায়া মমতা ও ভালোবাসা বলে কিছু থাকবেনা, মানুষ কেবল রবোটিক একটি জীবনে অভ্যস্ত থাকবে। আর হাসি আনন্দের জন্য ভাঁড় এবং টিভিতে কৌতুক আইডলের প্রোগ্রাম করে জীবনকে সামান্য রসাত্মক করার প্রচেষ্টা চলবে।

মায়ের শেষ বাক্যটি কি ছিল মনে পড়ছে? “যাও বুয়াকে গিয়ে বল” এর মাঝে অনেকগুলো বিষয় রয়েছে। অবশ্যই আমরা আমাদের বাসার বুয়াদেরকে মানবিক সম্মান দেখাই, এবং তাদেরকে যথেষ্ট সমাদর করেই চলি কিন্তু যখন সমাজের শিক্ষিত শ্রেণীর শিশুটি অশিক্ষিত একটি বুয়ার কাছ থেকে জীবনের পাঠ নেয় তখন তার আচরণে কেন আমরা অসন্তুষ্ট হবো? সন্তান অনির্ভর যোগ্য স্থান থেকে নানান শিক্ষা এবং আচরণ শিখছে সে বিষয়ে আমাদের খুব একটা উদ্বেগ একেবারেই নেই। যেন বেঁচে গেলাম। ডে কেয়ার তো মনেহয় যেন এক একটা কয়েদখানা। হয়তো শিশুটি বুঝতে পারছেনা তার নিজের পরাধীনতা সম্পর্কে কিংবা তার প্রকাশ করার জ্ঞান নেই। অথচ মায়ের বুকের উষ্ণতা বঞ্চিত সেই একই শিশুর বড় কালের আচরণে আমরা কষ্ট পাই। কেন? কিসের কষ্ট? যখন আমি আদর দিইনি তখন খেয়াল ছিলোনা, আর যখন আমার বুকে লাথি ছুড়ে দিচ্ছে তখনই ছেলে ভালো না—বেয়াদব!!

মনে করা হয় মায়ের এবং বাবার উভয়ের কর্মমুখী জীবনই হয়তো এর জন্য দায়ী, কিন্তু বিষয়টি আসলে তা নয়। চাকুরী করে যাচ্ছে এমন অনেক সচেতন বাবা মা দেখেছি যারা তাদের সন্তানদেরকে সচেতন ভাবে গড়ে তুলছেন। অবশ্য সেই সাথে একটি বিষয়ও খেয়াল রাখা উচিৎ আমরা সম্পদের মোহে কর্মের মাঝে এতোটাই মগ্ন হয়ে যাই যে আমরা নিজেদের কাজে কর্মে নিজেদেরকে টাকা উঠানোর একটি এটি-এম মেশিনের সাথে খুব একটা ফারাক রাখিনা। ভুলে যাই—আসলে আমিও একজন মা, কিংবা বাবা।

ভুলে যাই এডাল্ট লাইফের ব্যস্ততায় একটি কোমল ভবিষ্যতের ভিত নির্মাণের কথা। নিজেদের সাথে নিজেদের এই বিশ্বাসঘাতকতা আরও কতকাল চলবে আমাদের? আমরা নিজেরাই নিজ হাতে গড়ে তুলি এক একটি প্রজন্ম, নিজেদের সাথে নিজেদের এই স্বার্থপরতা আর কতকাল চলবে?

পূর্বে প্রকাশিত
Read More ... »

Saturday, June 25, 2011

মুসলমানের হাসি : ০৯ - ইঞ্জিল নয় কদু




"ইঞ্জিল নয় কদু"

এক খ্রষ্টান বক্তা দেওবন্দে আসতো আমি (মাওলানা আশরাফ আলী থানবী র.)  তখন সেই মাদ্রাসায় পড়তাম এক দিন সে এস মাদ্রাসার কাছে বক্তৃতা শুরু করে দিল মহল্লাহর লোক এবং মাদ্রাসার ছাত্র সমবেত হয়ে বেশ বড় একটা সমাবেশ সৃষ্টি করল
খৃষ্টান লোকটি দাঁড়িয়ে হাতে সুন্দর হরফে ‘ইঞ্জিল’ খচিত একটি বই নিয়ে সমবেত লোকদেরকে লক্ষ্য করে জিজ্ঞাসা করলো, “আমার হাতে এটা কি?”
তার উদ্দেশ্য ছিল এই যে, মুসলমানেরা যদি জবাব দেয় ‘এটা ইঞ্জিল’ তাহলে তাদের এই স্বীকারোক্তি দ্বারা প্রমাণিত হবে যে এটা ইঞ্জিল আর ইঞ্জিলকে যেহেতু মুসলমানেরা আল্লাহর কিতাব হিসাবে বিশ্বাস করে সুতরাং এই বইয়ের হুকুমকেও তারা মানতে বাধ্য হবে
কিন্তু মুসলমানদের এরুপ জবাব দ্বারা বিতর্কের সৃষ্টি হবে মুসলমানেরা বলবে, ‘এটা ইঞ্জিল হলেও এর হুকুম রহিত/অচল (মনসুখ) হয়ে গেছে’  
আর সে বলবে ‘না, রহিত হয় নি’ সুতরাং তার প্রশ্ন ‘এটা কি?’ এর জবাবে ‘ইঞ্জিল’ বললে একটা স্থায়ী বিতর্কের সৃষ্টি হবে; যা কখনও শেষ হবে না
সুতরাং কেউ কোন জবাব দেয়নি

এমন সময় মাদ্রাসা কমিটির মেম্বার হাকিম মুশতাক আহমেদ এসে গেলেন তিনি ছাত্রদেরকে বললেন, “সরে যাও, এর জবাব দেওয়া তোমাদের কাজ নয় আমি জবাব দিচ্ছি’ তিনি বললেন, ‘তোমার প্রশ্নের জবাব আমি দিব প্রশ্ন যা করতে চাও কর’
সে খুব উসাহের সাথে সেই বইটি হাতে নিয়ে বললো, ‘বলুন, আমার হাতে এটা কি?’ তিনি বললেন, ‘এটা কদু’
সে খুব অসন্তুষ্ট হয়ে বললো, ‘তুমি বড় বেয়াদব দেখছি!’
তিনি বললেন, ‘আমরা যা বুঝতে পেরেছি তাই বলেছি এতে আবার বেয়াদবীর কি হল? অবশ্য যদি ব্যাখ্যা চাও তবে একথার ব্যাখ্যা আমরা দিতে পারি পরিবর্তিত করার পর এটা আর আল্লাহর কিতাব নয় যে বেয়াদবী হবে কদু যেরুপ আল্লাহর কিতাব নয় এটাও সেরুপ আল্লাহর কিতাব (ইঞ্জিল) নয় কদু আর এটার মধ্যে কোন পার্থক্য নাই সুতরাং এটাও একটা কদু কদুকে কদু বললে কোন বেয়াদবী হয়না’
-আল এফাযাতুল ইয়াউমিয়্যাহ, খন্ড-৫, পৃষ্টা-১১৮
Read More ... »

Saturday, June 18, 2011

মুসলমানের হাসি : ০৮ - মন্ত্রীর বুদ্ধি


পাশ্চাত্য প্রভাবিত অনেক বুদ্ধিজীবি আজকাল মোল্লাদেরকে তুচ্ছ জ্ঞান করে থাকেন আগেকালের যুগেও তাই করা হত


এক বাদশাহর ঘটনা এখানে উল্লেখযোগ্য বাদশাহ বলতেন, “আলেমদের জ্ঞানের গভীরতার কোন তুলনা হয় না” কিন্তু তার মন্ত্রী এ ব্যাপারে মতভেদ করতেন
একদিন বাদশাহ পুকুরের পাড়ে সান্ধ্য ভ্রমণ করছিলেন তখন অযত্নে প্রতিপালিত মলিন বেশে বগলে কিতাব নিয়ে মাদ্রাসার এক ছাত্র সেখান দিয়ে অতিক্রম করছিল বাদশাহ তাকে কাছে ডাকলেন এবং মন্ত্রীকে প্রশ্ন করলেন, “মন্ত্রী বলুন তো এই পুকুরে কত গ্লাস পানি আছে?”
মন্ত্রী বললেন, “প্রথমে এই পুকুরের পাশে অন্য একটি নতুন পুকুর খুঁড়তে হবে তারপর গ্লাস ভরে ভরে এই পানি সেই পুকুরে রাখতে হবে পানি নি:শ্বেষ হলে বুঝা যাবে এই পুকুরে কত গ্লাস পানি আছে”
বাদাশাহ তখন মাদ্রাসার ছাত্রটিকে জিজ্ঞাসা করলেন, “মৌলবী সাহেব, আপনি কি বলতে পারেন এই পুকুরে কত গ্লাস পানি আছে?”
ছাত্রটি সঙ্গে সঙ্গে জবাব দিল, “এই প্রশ্নটি আসলে ত্রুটিপূর্ণ কারণ এখানে বলা হয় নি গ্লাসটি কত বড় যদি গ্লাসটি পুকুরের সমান হয় তাহলে নি:সন্দেহে এই পুকুরে এক গ্লাস পানি আছে আর যদি গ্লাসটি পুকুরের অর্ধেক হয় তবে দুই গ্লাস পানি আছে এভাবে পুকুর এবং গ্লাসের আনুপাতিক মাপ অনুযায়ী হিসাব করে নিন পুকুরে কত গ্লাস পানি আছে”
বাদশাহ মন্ত্রীকে বললেন, “দেখুন এবার জ্ঞানী কাকে বলে প্রশ্ন অনুযায়ী আপনার জবাবটি যথেষ্ট হতে পারে নি অথচ সাধারণ একজন মাদ্রাসার ছাত্র একটি মাত্র সংক্ষিপ্ত জবাবে সমস্ত জটিলতা নিরসর করে দিয়েছে সুতরাং প্রকৃত জ্ঞানী কে একবার ভেবে দেখুন”
আজাকলের বুদ্ধিজীবিগণের ভ্রম এখানেই যে, অভিজ্ঞতার আলোকে তারা যেখানে পৌঁছতে পারেন তাকে জ্ঞানের ফল মনে করে থাকেন অভিজ্ঞতা এবং জ্ঞানকে তারা একই বস্তু মনে করেন অথচ এই দুইটি জিনিস পরস্পর সম্পূর্ণ পৃথক অভিজ্ঞতা এক জিনিস আর জ্ঞান অন্য জিনিস মোল্লাগণ যেহেতু অভিজ্ঞতার পালায় পড়েননি তাই তাদের অভিজ্ঞতা থাকে না তবে তারা পরিপূর্ণ জ্ঞানের অধিকারী হয়ে থাকেন তার প্রকৃষ্ট প্রমাণ হল এই যে, জীবনের পরিণাম সম্পর্কে তারা সচেতন আর জ্ঞান একথা বলে দেয় যে, যারা জীবনের পরিণাম সম্পর্কে সচেতন তারাই জ্ঞানী
আল এফাযাতুল ইয়াউমিয়্যাহ; খন্ড ৫, পৃষ্ঠা ১০০
Read More ... »

Friday, June 17, 2011

মুসলমানের হাসি : ০৭ - জমিদার বাবুর 'আল্লাহ' দেখার ঘটনা


এক জমিদার ছিল তার কোন কিছুরই অভাব ছিল না। একদিন সে ভাবলো, জীবনে অনেক কিছুই পেলাম, অনেক কিছুই দেখলাম। কিন্তু একটা জিনিস দেখতে পেলাম না। এই জিনিসটা দেখতে পেলেই আমার জীবনের সকর সাধ পূর্ণ হয়। যিনি আমাকে সৃষ্টি করলেন, আমাকে ধন-সম্পদ, বিবি-বাচ্চা আর ভোগের সকল সামগ্রী প্রদান করলেন সেই ভগবানকেই দেখা হলো না। সুতরাং যেভাবেই হোক ভগবানকে দেখতে হবে।
তিনি বাড়ী থেকে বাহির হলেন। এক ব্রাক্ষ্মণ পুরোহতের কাছে গিয়ে বললেন, “আমি ভগবানকে দেথতে চাই। আপনি কি আমাকে ভগবান দেখাতে পারেন ?”
ব্রাক্ষ্মণ বললো, “অবশ্যই ! ভিতরে আসুন”। এই বলে সে মন্দিরের ভিতরে নিয়ে গিয়ে একটি মূর্তি দাঁড় করানো ছিল তার দিকে ইশারা করে বললো, “এই যে ইনি ভগবান”।
জমিদার বাবু বললেন, “এই ভগবান নয়। আসল ভগবান দেখতে চাই”।
ব্রাক্ষ্ম বললো, “আমার কাছে এই ভগবানই আছে। এছাড়া আমি আর কিছু দেখাতে পারব না”।
জমিদার বাবু সেখান থেকে বিদায় হলেন। 


এরপর শুনতে পেলেন যে, অমুক জায়গায় এক সাধু আছে, বহুদিন থেকে সে সাধনা করে যাচ্ছে। সে অবশ্যই ভগবান দেখাতে পারবে। সুতরাং সেদিকে রওয়ানা হলেন। তার আশ্রমে গিয়ে বললেন, “বহুদিন থেকে আমার ভগবান দেখার ইচ্ছা হয়েছে। আপনি যদি আমাকে ভগবান দেখান তবে বহুদিনের একটি সাধ পূরণ হয়”।
সাধু বললেন, “ঠিক আছে। এখনই ভগবান দেখিয়ে দিচ্ছি। ঐ যে দেখছেন পর্দা! ঐ পর্দা সরালেই ভগবান দেখতে পাবেন”।
জমিদার বাবু পর্দা সরাতেই দেখেন বিশাল এক পাথরের মূর্তি দাঁড়িয়ে আছে। তিনি সাধুকে বললেন, “এইসব ভগবান তো ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছি। আমি আসল ভগবান দেখতে চাই”।
সাধু বললেন, “এই ভগবান ছাড়া আমার কাছে আর কোন ভগবান নাই”।
অত:পর জমিদার বাবু আরেক সাধুর সন্ধান পেলেন। অনেক দূর সফর করে সেই সাধুর কাছে গিয়ে তার মনের বাসনা প্রকাশ করলেন। সাধু বললেন, “এখন এখানেই অপেক্ষা করুন।গভীর রাত্রে যখন সবাই ঘুমিয়ে পড়বে, চারিদিকে নীরব নিস্তব্ধ হবে তখন ভগবান আগমন করবেন”।
তিনি তার কথামত অপেক্ষা করতে লাগলেন। রাত্রি যখন গভীর হলো তখন তাকে নিয়ে সাধু মন্দির থেকে বাহির হলেন। দূরে দিগন্তের দিকে অঙ্গুলি নির্দেশ করে বললেন, “ঐ যে দেখেন, একটা আলো এদিক থেকে ওদিকে যাচ্ছে ঐটাই পরমেশ্বরের জ্যোতি। জীবন্ত ভগবান, তিনি চলা-ফেরা করেন”।
জমিদার বাবু অবাক হলেন। তবু তার দ্বন্দ্ব রয়ে গেল। তিনি বললেন, “তাহলে কাছে গিয়ে দেখে আসি?”
সাধু বললেন, “খবরদার! কাছে যেয়ো না জ্বলে পুড়ে ছাই হয়ে যাবে”।
কিন্তু জমিদার বাবু আগ্রহের আতিশয্যে ছুটে গেলেন পরমেশ্বরের জ্যোতি দেখতে। কাছে গিয়ে দেখেন একটি কচ্ছপের পীঠের উপর সিমেন্টের ঢালাই করা সমতাল একটা পাটাতান। তার উপর প্রদ্বীপ জ্বালিয়ে আলোও এদিক থেকে ওদিকে চলাফেরা করছে। একেই পরমেশ্বরের জ্যোতি নাম দিয়ে সাধু অনেক লোককে দেখিয়ে বেশ সুনাম অর্জন করেছেন।
জমিদার বাবু সাধুর কাছে ফিরে এসে বললেন, “এটাতো একটা কচ্ছপ মাত্র, ভগবান কোথায় ?”
সাধু বললেন, আমার কাছে এইটাই আছে। আর কোন ভগবান নাই। তবে তোমার কাছে আমার অনুরোধ- কারো কাছে একথা প্রকাশ করিও না। তুমি কোথাও যেয়োনা। আমার কাছেই থেকে যাও। হালুয়া রুটি এখানে প্রচুর আসে খেতে পারবে”।
জমিদার বাবু বললেন, “হালুয়া রুটি আমার বাড়ীতে অনেক আছে। হালুয়া চাই না। ভগবান চাই”।
অবশেষে তিনি মুসলমানদের স্মরণাপন্ন হলেন। এক মসজিদে গিয়ে একজন মুসল্লীকে জিজ্ঞাসা করলেন, “তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে বড় আলেম কে?”
লোকটি আমার (গল্পটির কথক মাওলানা আশরাফ আলী) নাম বলে দিল যে তিনি হলেন, মাওলানা আশরাফ আলী থানবী (র)
অত:পর জমিদার বাবু বহু রাস্তা অতিক্রম করে একদিন আমার কাছে এসে বললো, “আমি আল্লাহকে দেখতে চাই। বহু লোকের কাছে গিয়েছি কেউ আমাকে দেখাতে পারেনি। সাধু-সন্ন্যাসী-পুরোহীতের কাছে গেলাম সবাই প্রতারণা করেছে। আমি আশা করি আপনি আমাকে আল্লাহ দেখাতে পারবেন। আর আমি আপনার কাছে ওয়াদা করছি, আপনি যদি আল্লাহ দেখাতে পারেন তবে আমি মুসলমান হয়ে যাবো”।
আমি বললাম, “তোমার মুসলমান হওয়াতে আমার কোন দরকার নাই। যদি তুমি মুসলমান হও তবে তুমি দোযখের আযাব থেকে বেঁচে যাবে। এবং জান্নাতের অধিকারী হতে পারবে তাতে তোমারই লাভ। আমার কোন প্রয়োজন নাই। তবে একটি সত্য কথা বলে দিচ্ছি, এ দুনিয়াতে কোনদিন আল্লাহকে দেখতে পারবে না। দুনিয়াতে আল্লাহকে দেখা সম্ভব নয়। আর একটি সত্য কথা শনে রাখ, তুমি যদি মুসলমান হও তবে অবশ্যই জান্নাতে যাবে। আরও সত্য হল এই যে, একজন মুসলমান মৃত্যুর পরে যখন জান্নাতে যাবে তখন অবশ্যই সে আল্লাহকে দেখতে পাবে”।
লোকটির অন্তরে সত্য কথা এত আছর করলো যে সে সঙ্গে সঙ্গে বলে উঠলো, “হুযুর, আমি মুসলমান হতে চাই, আমাকে মুসলমান করে নিন”।
আমি তার আন্তরিকতা দেখে হাত বাড়ালাম। 
কালেমা তাইয়্যেবা

জমিদার বাবু কালেমা পড়ে সঙ্গে সঙ্গে মুসলমান হয়ে গেল।
সত্য কথার ওজন এত বেশী যে নিমেষে পাথরও চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে ধূলিতে মিশে যায়।


সূত্র : আল এফাযাতুল ইয়াউমিয়াহ।
Read More ... »

প্রত্যেককেই নিজ দায়িত্ব সম্পর্কে জবাবদিহি করতে হবে



ইবনে উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমার বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন:
“আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: তোমাদের প্রত্যেকেই রক্ষণাবেক্ষণকারী(বা দায়িত্বশীল) এবং তোমাদের প্রত্যেকেই তার অধীনস্থদের রক্ষণাবেক্ষণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। পুরুষ তার পরিবার ও সংসারের জন্য দায়িত্বশীল এবং তাকে তার রক্ষণাবেক্ষণ ও দায়িত্বপালন সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। স্ত্রীলোক তার স্বামীর ঘরের রক্ষণাবেক্ষণকারিনী এবং তাকে সে সম্পর্কে জবাবদিহি করতে হবে। খাদেম তার মনিবের সম্পদের রক্ষণাবেক্ষণকারী এবং তাকে তার সে দায়িত্বপালন সম্পর্কে জবাবদিহি করতে হবে। অতএব তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং প্রত্যেককে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন সম্পর্কে জবাবদিহি করতে হবে।” 
[বুখারী: ৭/৪১(৫২০০) ও মুসলিম: ৬/৭(১৮২৯)] 

 যুবাইর বিন ‘আদী (রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:
আমরা আনাস বিন মালেক (রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর নিকট এসে হাজীদের থেকে আমরা যে কষ্ট পাই সে ব্যাপারে আমরা অভিযোগ করলাম। তখন তিনি বললেন: ধৈর্য ধর, তোমাদের সামনে এমন এক সময় আসবে যার বর্তমান দিনের চেয়ে পরবর্তী দিনটি খারাপ হবে, আর এ অবস্থায়ই তোমরা আল্লাহর সাথে মিলিত হবে। আমি এ কথাটি তোমাদের নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট থেকে শুনেছি। 
[বুখারী: কিতাবুল ফিতান, বাব লাইয়াতি যামান ইল্লা আল্লাযী বা'দাহু সারুন মিনহু, মাকতাবাতুস শামেলাহ্ থেকে হাদীস নং- 6541]
Read More ... »
 

© 2009 Islam And Computing । Science without Religion is Lame, Religion without Science is Blind | Design by: Islam And Computing

^Back to Top