Saturday, June 25, 2011

মুসলমানের হাসি : ০৯ - ইঞ্জিল নয় কদু




"ইঞ্জিল নয় কদু"

এক খ্রষ্টান বক্তা দেওবন্দে আসতো আমি (মাওলানা আশরাফ আলী থানবী র.)  তখন সেই মাদ্রাসায় পড়তাম এক দিন সে এস মাদ্রাসার কাছে বক্তৃতা শুরু করে দিল মহল্লাহর লোক এবং মাদ্রাসার ছাত্র সমবেত হয়ে বেশ বড় একটা সমাবেশ সৃষ্টি করল
খৃষ্টান লোকটি দাঁড়িয়ে হাতে সুন্দর হরফে ‘ইঞ্জিল’ খচিত একটি বই নিয়ে সমবেত লোকদেরকে লক্ষ্য করে জিজ্ঞাসা করলো, “আমার হাতে এটা কি?”
তার উদ্দেশ্য ছিল এই যে, মুসলমানেরা যদি জবাব দেয় ‘এটা ইঞ্জিল’ তাহলে তাদের এই স্বীকারোক্তি দ্বারা প্রমাণিত হবে যে এটা ইঞ্জিল আর ইঞ্জিলকে যেহেতু মুসলমানেরা আল্লাহর কিতাব হিসাবে বিশ্বাস করে সুতরাং এই বইয়ের হুকুমকেও তারা মানতে বাধ্য হবে
কিন্তু মুসলমানদের এরুপ জবাব দ্বারা বিতর্কের সৃষ্টি হবে মুসলমানেরা বলবে, ‘এটা ইঞ্জিল হলেও এর হুকুম রহিত/অচল (মনসুখ) হয়ে গেছে’  
আর সে বলবে ‘না, রহিত হয় নি’ সুতরাং তার প্রশ্ন ‘এটা কি?’ এর জবাবে ‘ইঞ্জিল’ বললে একটা স্থায়ী বিতর্কের সৃষ্টি হবে; যা কখনও শেষ হবে না
সুতরাং কেউ কোন জবাব দেয়নি

এমন সময় মাদ্রাসা কমিটির মেম্বার হাকিম মুশতাক আহমেদ এসে গেলেন তিনি ছাত্রদেরকে বললেন, “সরে যাও, এর জবাব দেওয়া তোমাদের কাজ নয় আমি জবাব দিচ্ছি’ তিনি বললেন, ‘তোমার প্রশ্নের জবাব আমি দিব প্রশ্ন যা করতে চাও কর’
সে খুব উসাহের সাথে সেই বইটি হাতে নিয়ে বললো, ‘বলুন, আমার হাতে এটা কি?’ তিনি বললেন, ‘এটা কদু’
সে খুব অসন্তুষ্ট হয়ে বললো, ‘তুমি বড় বেয়াদব দেখছি!’
তিনি বললেন, ‘আমরা যা বুঝতে পেরেছি তাই বলেছি এতে আবার বেয়াদবীর কি হল? অবশ্য যদি ব্যাখ্যা চাও তবে একথার ব্যাখ্যা আমরা দিতে পারি পরিবর্তিত করার পর এটা আর আল্লাহর কিতাব নয় যে বেয়াদবী হবে কদু যেরুপ আল্লাহর কিতাব নয় এটাও সেরুপ আল্লাহর কিতাব (ইঞ্জিল) নয় কদু আর এটার মধ্যে কোন পার্থক্য নাই সুতরাং এটাও একটা কদু কদুকে কদু বললে কোন বেয়াদবী হয়না’
-আল এফাযাতুল ইয়াউমিয়্যাহ, খন্ড-৫, পৃষ্টা-১১৮
Read More ... »

Saturday, June 18, 2011

মুসলমানের হাসি : ০৮ - মন্ত্রীর বুদ্ধি


পাশ্চাত্য প্রভাবিত অনেক বুদ্ধিজীবি আজকাল মোল্লাদেরকে তুচ্ছ জ্ঞান করে থাকেন আগেকালের যুগেও তাই করা হত


এক বাদশাহর ঘটনা এখানে উল্লেখযোগ্য বাদশাহ বলতেন, “আলেমদের জ্ঞানের গভীরতার কোন তুলনা হয় না” কিন্তু তার মন্ত্রী এ ব্যাপারে মতভেদ করতেন
একদিন বাদশাহ পুকুরের পাড়ে সান্ধ্য ভ্রমণ করছিলেন তখন অযত্নে প্রতিপালিত মলিন বেশে বগলে কিতাব নিয়ে মাদ্রাসার এক ছাত্র সেখান দিয়ে অতিক্রম করছিল বাদশাহ তাকে কাছে ডাকলেন এবং মন্ত্রীকে প্রশ্ন করলেন, “মন্ত্রী বলুন তো এই পুকুরে কত গ্লাস পানি আছে?”
মন্ত্রী বললেন, “প্রথমে এই পুকুরের পাশে অন্য একটি নতুন পুকুর খুঁড়তে হবে তারপর গ্লাস ভরে ভরে এই পানি সেই পুকুরে রাখতে হবে পানি নি:শ্বেষ হলে বুঝা যাবে এই পুকুরে কত গ্লাস পানি আছে”
বাদাশাহ তখন মাদ্রাসার ছাত্রটিকে জিজ্ঞাসা করলেন, “মৌলবী সাহেব, আপনি কি বলতে পারেন এই পুকুরে কত গ্লাস পানি আছে?”
ছাত্রটি সঙ্গে সঙ্গে জবাব দিল, “এই প্রশ্নটি আসলে ত্রুটিপূর্ণ কারণ এখানে বলা হয় নি গ্লাসটি কত বড় যদি গ্লাসটি পুকুরের সমান হয় তাহলে নি:সন্দেহে এই পুকুরে এক গ্লাস পানি আছে আর যদি গ্লাসটি পুকুরের অর্ধেক হয় তবে দুই গ্লাস পানি আছে এভাবে পুকুর এবং গ্লাসের আনুপাতিক মাপ অনুযায়ী হিসাব করে নিন পুকুরে কত গ্লাস পানি আছে”
বাদশাহ মন্ত্রীকে বললেন, “দেখুন এবার জ্ঞানী কাকে বলে প্রশ্ন অনুযায়ী আপনার জবাবটি যথেষ্ট হতে পারে নি অথচ সাধারণ একজন মাদ্রাসার ছাত্র একটি মাত্র সংক্ষিপ্ত জবাবে সমস্ত জটিলতা নিরসর করে দিয়েছে সুতরাং প্রকৃত জ্ঞানী কে একবার ভেবে দেখুন”
আজাকলের বুদ্ধিজীবিগণের ভ্রম এখানেই যে, অভিজ্ঞতার আলোকে তারা যেখানে পৌঁছতে পারেন তাকে জ্ঞানের ফল মনে করে থাকেন অভিজ্ঞতা এবং জ্ঞানকে তারা একই বস্তু মনে করেন অথচ এই দুইটি জিনিস পরস্পর সম্পূর্ণ পৃথক অভিজ্ঞতা এক জিনিস আর জ্ঞান অন্য জিনিস মোল্লাগণ যেহেতু অভিজ্ঞতার পালায় পড়েননি তাই তাদের অভিজ্ঞতা থাকে না তবে তারা পরিপূর্ণ জ্ঞানের অধিকারী হয়ে থাকেন তার প্রকৃষ্ট প্রমাণ হল এই যে, জীবনের পরিণাম সম্পর্কে তারা সচেতন আর জ্ঞান একথা বলে দেয় যে, যারা জীবনের পরিণাম সম্পর্কে সচেতন তারাই জ্ঞানী
আল এফাযাতুল ইয়াউমিয়্যাহ; খন্ড ৫, পৃষ্ঠা ১০০
Read More ... »

Friday, June 17, 2011

মুসলমানের হাসি : ০৭ - জমিদার বাবুর 'আল্লাহ' দেখার ঘটনা


এক জমিদার ছিল তার কোন কিছুরই অভাব ছিল না। একদিন সে ভাবলো, জীবনে অনেক কিছুই পেলাম, অনেক কিছুই দেখলাম। কিন্তু একটা জিনিস দেখতে পেলাম না। এই জিনিসটা দেখতে পেলেই আমার জীবনের সকর সাধ পূর্ণ হয়। যিনি আমাকে সৃষ্টি করলেন, আমাকে ধন-সম্পদ, বিবি-বাচ্চা আর ভোগের সকল সামগ্রী প্রদান করলেন সেই ভগবানকেই দেখা হলো না। সুতরাং যেভাবেই হোক ভগবানকে দেখতে হবে।
তিনি বাড়ী থেকে বাহির হলেন। এক ব্রাক্ষ্মণ পুরোহতের কাছে গিয়ে বললেন, “আমি ভগবানকে দেথতে চাই। আপনি কি আমাকে ভগবান দেখাতে পারেন ?”
ব্রাক্ষ্মণ বললো, “অবশ্যই ! ভিতরে আসুন”। এই বলে সে মন্দিরের ভিতরে নিয়ে গিয়ে একটি মূর্তি দাঁড় করানো ছিল তার দিকে ইশারা করে বললো, “এই যে ইনি ভগবান”।
জমিদার বাবু বললেন, “এই ভগবান নয়। আসল ভগবান দেখতে চাই”।
ব্রাক্ষ্ম বললো, “আমার কাছে এই ভগবানই আছে। এছাড়া আমি আর কিছু দেখাতে পারব না”।
জমিদার বাবু সেখান থেকে বিদায় হলেন। 


এরপর শুনতে পেলেন যে, অমুক জায়গায় এক সাধু আছে, বহুদিন থেকে সে সাধনা করে যাচ্ছে। সে অবশ্যই ভগবান দেখাতে পারবে। সুতরাং সেদিকে রওয়ানা হলেন। তার আশ্রমে গিয়ে বললেন, “বহুদিন থেকে আমার ভগবান দেখার ইচ্ছা হয়েছে। আপনি যদি আমাকে ভগবান দেখান তবে বহুদিনের একটি সাধ পূরণ হয়”।
সাধু বললেন, “ঠিক আছে। এখনই ভগবান দেখিয়ে দিচ্ছি। ঐ যে দেখছেন পর্দা! ঐ পর্দা সরালেই ভগবান দেখতে পাবেন”।
জমিদার বাবু পর্দা সরাতেই দেখেন বিশাল এক পাথরের মূর্তি দাঁড়িয়ে আছে। তিনি সাধুকে বললেন, “এইসব ভগবান তো ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছি। আমি আসল ভগবান দেখতে চাই”।
সাধু বললেন, “এই ভগবান ছাড়া আমার কাছে আর কোন ভগবান নাই”।
অত:পর জমিদার বাবু আরেক সাধুর সন্ধান পেলেন। অনেক দূর সফর করে সেই সাধুর কাছে গিয়ে তার মনের বাসনা প্রকাশ করলেন। সাধু বললেন, “এখন এখানেই অপেক্ষা করুন।গভীর রাত্রে যখন সবাই ঘুমিয়ে পড়বে, চারিদিকে নীরব নিস্তব্ধ হবে তখন ভগবান আগমন করবেন”।
তিনি তার কথামত অপেক্ষা করতে লাগলেন। রাত্রি যখন গভীর হলো তখন তাকে নিয়ে সাধু মন্দির থেকে বাহির হলেন। দূরে দিগন্তের দিকে অঙ্গুলি নির্দেশ করে বললেন, “ঐ যে দেখেন, একটা আলো এদিক থেকে ওদিকে যাচ্ছে ঐটাই পরমেশ্বরের জ্যোতি। জীবন্ত ভগবান, তিনি চলা-ফেরা করেন”।
জমিদার বাবু অবাক হলেন। তবু তার দ্বন্দ্ব রয়ে গেল। তিনি বললেন, “তাহলে কাছে গিয়ে দেখে আসি?”
সাধু বললেন, “খবরদার! কাছে যেয়ো না জ্বলে পুড়ে ছাই হয়ে যাবে”।
কিন্তু জমিদার বাবু আগ্রহের আতিশয্যে ছুটে গেলেন পরমেশ্বরের জ্যোতি দেখতে। কাছে গিয়ে দেখেন একটি কচ্ছপের পীঠের উপর সিমেন্টের ঢালাই করা সমতাল একটা পাটাতান। তার উপর প্রদ্বীপ জ্বালিয়ে আলোও এদিক থেকে ওদিকে চলাফেরা করছে। একেই পরমেশ্বরের জ্যোতি নাম দিয়ে সাধু অনেক লোককে দেখিয়ে বেশ সুনাম অর্জন করেছেন।
জমিদার বাবু সাধুর কাছে ফিরে এসে বললেন, “এটাতো একটা কচ্ছপ মাত্র, ভগবান কোথায় ?”
সাধু বললেন, আমার কাছে এইটাই আছে। আর কোন ভগবান নাই। তবে তোমার কাছে আমার অনুরোধ- কারো কাছে একথা প্রকাশ করিও না। তুমি কোথাও যেয়োনা। আমার কাছেই থেকে যাও। হালুয়া রুটি এখানে প্রচুর আসে খেতে পারবে”।
জমিদার বাবু বললেন, “হালুয়া রুটি আমার বাড়ীতে অনেক আছে। হালুয়া চাই না। ভগবান চাই”।
অবশেষে তিনি মুসলমানদের স্মরণাপন্ন হলেন। এক মসজিদে গিয়ে একজন মুসল্লীকে জিজ্ঞাসা করলেন, “তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে বড় আলেম কে?”
লোকটি আমার (গল্পটির কথক মাওলানা আশরাফ আলী) নাম বলে দিল যে তিনি হলেন, মাওলানা আশরাফ আলী থানবী (র)
অত:পর জমিদার বাবু বহু রাস্তা অতিক্রম করে একদিন আমার কাছে এসে বললো, “আমি আল্লাহকে দেখতে চাই। বহু লোকের কাছে গিয়েছি কেউ আমাকে দেখাতে পারেনি। সাধু-সন্ন্যাসী-পুরোহীতের কাছে গেলাম সবাই প্রতারণা করেছে। আমি আশা করি আপনি আমাকে আল্লাহ দেখাতে পারবেন। আর আমি আপনার কাছে ওয়াদা করছি, আপনি যদি আল্লাহ দেখাতে পারেন তবে আমি মুসলমান হয়ে যাবো”।
আমি বললাম, “তোমার মুসলমান হওয়াতে আমার কোন দরকার নাই। যদি তুমি মুসলমান হও তবে তুমি দোযখের আযাব থেকে বেঁচে যাবে। এবং জান্নাতের অধিকারী হতে পারবে তাতে তোমারই লাভ। আমার কোন প্রয়োজন নাই। তবে একটি সত্য কথা বলে দিচ্ছি, এ দুনিয়াতে কোনদিন আল্লাহকে দেখতে পারবে না। দুনিয়াতে আল্লাহকে দেখা সম্ভব নয়। আর একটি সত্য কথা শনে রাখ, তুমি যদি মুসলমান হও তবে অবশ্যই জান্নাতে যাবে। আরও সত্য হল এই যে, একজন মুসলমান মৃত্যুর পরে যখন জান্নাতে যাবে তখন অবশ্যই সে আল্লাহকে দেখতে পাবে”।
লোকটির অন্তরে সত্য কথা এত আছর করলো যে সে সঙ্গে সঙ্গে বলে উঠলো, “হুযুর, আমি মুসলমান হতে চাই, আমাকে মুসলমান করে নিন”।
আমি তার আন্তরিকতা দেখে হাত বাড়ালাম। 
কালেমা তাইয়্যেবা

জমিদার বাবু কালেমা পড়ে সঙ্গে সঙ্গে মুসলমান হয়ে গেল।
সত্য কথার ওজন এত বেশী যে নিমেষে পাথরও চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে ধূলিতে মিশে যায়।


সূত্র : আল এফাযাতুল ইয়াউমিয়াহ।
Read More ... »

প্রত্যেককেই নিজ দায়িত্ব সম্পর্কে জবাবদিহি করতে হবে



ইবনে উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমার বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন:
“আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: তোমাদের প্রত্যেকেই রক্ষণাবেক্ষণকারী(বা দায়িত্বশীল) এবং তোমাদের প্রত্যেকেই তার অধীনস্থদের রক্ষণাবেক্ষণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। পুরুষ তার পরিবার ও সংসারের জন্য দায়িত্বশীল এবং তাকে তার রক্ষণাবেক্ষণ ও দায়িত্বপালন সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। স্ত্রীলোক তার স্বামীর ঘরের রক্ষণাবেক্ষণকারিনী এবং তাকে সে সম্পর্কে জবাবদিহি করতে হবে। খাদেম তার মনিবের সম্পদের রক্ষণাবেক্ষণকারী এবং তাকে তার সে দায়িত্বপালন সম্পর্কে জবাবদিহি করতে হবে। অতএব তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং প্রত্যেককে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন সম্পর্কে জবাবদিহি করতে হবে।” 
[বুখারী: ৭/৪১(৫২০০) ও মুসলিম: ৬/৭(১৮২৯)] 

 যুবাইর বিন ‘আদী (রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:
আমরা আনাস বিন মালেক (রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর নিকট এসে হাজীদের থেকে আমরা যে কষ্ট পাই সে ব্যাপারে আমরা অভিযোগ করলাম। তখন তিনি বললেন: ধৈর্য ধর, তোমাদের সামনে এমন এক সময় আসবে যার বর্তমান দিনের চেয়ে পরবর্তী দিনটি খারাপ হবে, আর এ অবস্থায়ই তোমরা আল্লাহর সাথে মিলিত হবে। আমি এ কথাটি তোমাদের নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট থেকে শুনেছি। 
[বুখারী: কিতাবুল ফিতান, বাব লাইয়াতি যামান ইল্লা আল্লাযী বা'দাহু সারুন মিনহু, মাকতাবাতুস শামেলাহ্ থেকে হাদীস নং- 6541]
Read More ... »

Tuesday, June 14, 2011

মুসলমানের হাসি : ০৬ - বেদআতী মোল্লাহ সমাচার


আসসালামু আলাইকুম। আশা করি ভাল আছেন।
মুসলমানের হাসি বইটি নিয়ে লেখা আমার ধারাবাহিক পোষ্টগুলোর এটি পরবর্তী পোষ্ট। পূর্ববর্তীগুলো নিচে দেওয়া হল। না দেখলে এখনই দেখে নিন।


    "বেদআতী মোল্লাহ সমাচার"

    অনেকে কথা আবিস্কার করে নিয়ে সেগুলি হেঁকে বেড়ায়। যাতে অজ্ঞ লোকদের মধ্যে সহজে প্রভাব বিস্তার করা যায়। উদ্দেশ্যে হলো হালুয়া-মিঠাই। রসনার তৃপ্তির জন্যেই এই সকল নষ্টামি চলছে। এরা নিজের দ্বীনকে খারাপ করেছে এবং মানুষকেও গোমরাহ করেছে। এরুপ এক বেদআতীর ঘটনা শোনা গেছে এক গ্রামে।

    * সেখানে একটি মসজিদ ছিল। সেই মসজিদে এক মোল্লা থাকতো এক বুড়ি সওয়াব রেসানীর উদ্দেশ্যে মোল্লার জন্য কিছু খাবার নিয়ে আসলো। ঘটনাক্রমে তখন মসজিদে মোল্লা ছিল না। এক মুসাফির সেখানে অবস্থান করছিল। বুড়ি প্রথমে মোল্লা মোল্লা করে আওয়াজ দিল। কিন্তু কোন সাড়া শব্দ না পেয়ে ভাবলো খাবার খাওয়ানোর উদ্দেশ্য হলো সওয়াব লাভ করা। এই মুসাফিরকে দিলেও তো সওয়াব হবে। ঠিক আছে এই মুসাফিরকেই দিয়ে দিই। এই ভেবে খাবারগুলি মুসাফিরকে দিয়ে ফিরে চললো।
    মসজিদ থেকে বাহির হতেই দেখলো দরজায় মোল্লা এসে গেছে। বুড়িকে জিজ্ঞাসা করল, ‘ কি জন্যে এসেছিলে ?’
    বুড়ি বললো, ‘কিছু খাবার জিনিস এনেছিলাম তোমাকে না পেয়ে মুসাফিরকে দিয়ে যাচ্ছি।’
    এই কথা শোনা মাত্রই মোল্লা সাহেবের গায়ে যেন আগুন জ্বলে উঠলো। ভাবলো, এ দেখি এক নতুন রাস্তা খুলতে যাচ্ছে। এখনই এটা বন্ধ করা উচিৎ। না হলে আমার অস্থিত্ব বিলীন হবে।
    সুতরাং সে মসজিদে এসে হাতে একটি লাঠি নিয়ে মেঝেতে সজোরে বাড়ি কষতে লাগলো। সারা মসজিদে পাগলের মত ছুটাছুটি করে লাঠির আঘাত করতে করতে অবশেষে ধড়াম করে পড়ে গেল এবং মেঝেতে হাত-পা শাট করে শুয়ে থাকলো।
    ‘কি হল, কি হল’ বলে সারা গ্রামের লোক মসজিদে ভেঙ্গে পড়লো। মোল্লাকে ধরাধরি করে টেনে তুললো। এরপর জিজ্ঞাসা করলো, ‘কী হয়েছে মোল্লাজী, তোমার কী হয়েছে?’।
    মোল্লা বললো, ‘আমি এখানকার সব মুর্দাকে চিনি। মুসাফির সবাইকে চিনে না। তাই খাবার বিতরণ করার সময় অন্য গ্রামের মুর্দারকে দিয়েছে, প্রকৃত হকদার কিছুই পায়নি। মুসাফির বুঝতে পারেনি বলে তাকে কিছু বলেনি। কিন' যখন আমি আসলাম তখন সকল মুর্দা আমাকে ঘিরে ধরলো। এত ভয় দেখালাম, এত লাঠি মারলাম আর বললাম, যখন আমার হাতে দেয়নি তখন তোমাদেরকে আমি দিব কিভাবে ? কিন' আমার একটি কথাও শুনলো না, সবাই মিলে আমাকে চিৎ করে ফেলে দিয়ে বুকের উপর চড়ে বসলো। তোমার যদি এসে না ধরতা তবে আমার প্রাণ বধ করে ছাড়তো। কিন্তু তোমরা এভাবে আমাকে কতদিন রক্ষা করবা। তাই এখান থেকে চলে যাওয়াই ভাল।’
    বেচারা গ্রামবাসী একেবারে অসহায় হয়ে পড়লো। অত:পর সবাই একমত হয়ে বললো, ‘কোথাও যেয়ো না, এখন থেকে তোমার হাতেই সব খাবার দেওয়া হবে।’
    এইসব ভিত্তিহীন কথায় লোকগুলিকে বশ করে নিজের উদ্দেশ্য হাছিল করে নিল বটে, কিন' একটুও ভাবলো না যে এই লোকগুলি এরুপ বিশ্বাসের দ্বারা হেদায়াত প্রাপ্ত হবে না-কি গোমরাহীর গভীর অন্ধকারে হারিয়ে যাবে ?
    এই সকল জাহেল বেদআতী মোল্লাদের কারণেই এরা (হাক্বানী মোল্লারা) অনেকের দৃষ্টিতে তুচ্ছ এক প্রাণীতে পরিণত হয়েছে। 
    উদাহারণ স্বরুপ নিচের ঘটনা :-

    ক্ষীর খাওয়ার বিড়ম্বনা

    এক স্ক্রীলোক কিছু ক্ষীর রান্না করেছির। সবাই খাওয়ার পর বেঁচে থাকা ক্ষীরগুলি উঠানের এক কোণায় রেখে দিল। অত:পর তার ছোট ছেলেটিকে বললো, ‘যা, এগুলি মসজিদের মোল্লাকে দিয়ে আয়।’
    ছেলেটি যখন সেগুলি নিয়ে গেল তখন, কতকাল পরে না-জানি মোল্লা ক্ষীর দেখতে পেয়েছিল; তাড়াতাড়ি ওর হাত থেকে নিয়েই খেতে শুরু করে দিল।
    ছেলেটি বললো, ‘মোল্লাজী, ওপাশ থেকে খাবেন না, ও পাশে কুকুর খেয়েছে।’
    এই কথা শুনে মোল্লাজী ঘৃণা এবং রাগে হাত থেকে পাত্রটি ছুঁড়ে ফেলে দিল। পাত্র ভেঙ্গে টুকরা টুকরা হয়ে গেল। ছেলেটি ভয়ে কাঁদতে লাগলো।
    মোল্লা জিজ্ঞাসা করলো, ‘কাঁদছিস কেন ?’
    বললো, ‘পাত্রটি ভেঙ্গে ফেললেন, মা আমাকে মারবে।’
    মোল্লা বললো, ‘কুকুরে খাওয়া পাত্র ভেঙ্গে গেছে তা তাতে তোর মা মারবে কেন ?’
    ছেলেটি বললো, ‘ওটা আমার ছোট ভাইয়ের গু’ ফেলা পাত্র।’

    -আল এফাযাতুল এওমিয়্যাহ, খন্ড : ৪, পৃষ্ঠা : ১২১।
    Read More ... »
     

    © 2009 Islam And Computing । Science without Religion is Lame, Religion without Science is Blind | Design by: Islam And Computing

    ^Back to Top